On Page Seo Optimization কি? কিভাবে অন পেইজ এসইও করবেন। আমরা যারা ব্লগিং এর সাথে জড়িত তারা সবাই কমবেশি On Page Seo Optimization সম্পর্কে জানি। কিন্তু আসলে On Page Seo Optimization কি? কিভাবে অন পেইজ এসইও করতে হয় ও On Page Seo Optimization গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন আজকের পোস্টে।
On Page Seo Optimization কি?
অন পেইজ এসইও অপটিমাইজেশন হলো পেইজের মধ্যে যে এসইও করা হয় তাকে On Page Seo Optimization বলে। SEO কি বা কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমরা একটি পোস্ট করেছি চাইলে সেটিও দেখে আসতে পারেন। Search Engine Optimisation এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো SEO.
তারমানি On Page Seo Optimization হলো পেইজের মধ্যে যে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা হয় তাকে On Page Seo Optimization বলে। অর্থাৎ আমরা এই কনটেন্টকে পাবলিশ করার জন্য এর মধ্যে যে এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) করব তাই অন পেইজ এসইও। পক্ষান্তরে কনটেন্ট পাবলিশ করার পর ব্যকলিংক বা মার্কেটিং সহ অন্য যেসকল কাজ করা হয় তাকে OFF Page SEO বলা হয়।

যেভাবে অন পেইজ এসইও করবেন
আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন তাহলে খুব সহজেই যে কোন একটি প্লাগিন ব্যবহার করে অন পেইজ এসইও করতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি ব্লগার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনি এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে অন পেইজ এসইও করতে পারবেন। অন ফেইজ এসইওর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অপটিমাইজেশন নিচে তুলে ধরা হলো।
আরো পড়ুনঃ ওয়ার্ডপ্রেস শিখে ইনকাম করার উপায় ২০২৪
On Page SEO Friendly Title
একটি কনটেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একটি SEO Friendly টাইটেল তৈরি করা। সাধারণত, একটি টাইটেল নির্বাচনের পূর্বে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন:
- টাইটেলের মধ্যে ফোকাস কিওয়ার্ড যুক্ত করা।
- টাইটেলকে সর্বোচ্চ ৬০ অক্ষরের মধ্যে রাখা।
- টাইটেলে যেকোন সংখ্যা ব্যবহার করা।
- টাইটেলের শুরুতে ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করা।
- অর্থবহুল টাইটেল তৈরি করা।

কোয়ালিটি সম্পূর্ণ কনটেন্ট তৈরি
একটি এসইও ফ্রেন্ডলি টাইটেল দিলেই আপনার কনটেন্টটি অন পেইজ এসইও হয়ে যাবেন না। বা রাতারাতি গুগলে রেংক করবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে কোয়ালিটিফুল কনটেন্ট। তাই অবশ্যই একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি কোয়ালিটি ফুল কনটেন্ট লেখার চেষ্টা করুন। কনটেন্টটি কমপক্ষে ৬০০ ওয়ার্ডের বেশি লেখার চেষ্টা করুন। কনটেন্টে থাকা বাক্যাংশ গুলো যেন অর্থবহুল হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
কনটেন্টে জটিল শব্দ ব্যবহার না করে সহজ শব্দ গুলো ব্যবহার করুন। যেনো পাঠকেরা সেটা পড়ে খুব সহজে বুঝতে পারে। কনটেন্টে থাকা প্রতিটি Paragraph ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন এবং প্রতি ৩০০ শব্দের পর একটি করে সাব-হেডিং ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কনটেন্টে ব্যবহৃত H1, H2, H3, H4, H5 ও H6 হেডিং ও সাব হেডিং গুলো কনটেন্ট রিলেটেড ও ফোকাস কিওয়ার্ড এর ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
মনে রাখবেন, একটি কনটেন্টে H1 অর্থাৎ হেডিং সুধু মাত্র একবারই ব্যবহার হয় এবং h2, h3 ইত্যাদি সাব-হেডিং গুলো একাধিক বার ব্যবহার করা যেতে পরে। কনটেন্টে ব্যবহৃত ইমেজ গুলো কপিরাইট ফ্রি ও নিজেই তৈরি হতে হবে। ইমেজ গুলোর মধ্যে অবশ্যই Alt Tag ও Title এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কনটেন্টে ১২০০*৭২০/১২০০*৯০০ অথবা ১২০০*৬৭৫ একটি ফিচারস image ব্যবহার করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন কি? স্পিড অপটিমাইজেশন করার সহজ উপায়
এছাড়াও কনটেন্টের মধ্যে Internal ও outbound link ব্যবহার করতে হবে। পাঠকেরা যেনো উক্তো দুটি লিংক থেকে কনটেন্ট রিলেটেড আরোও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। কনটেন্টের মধ্যে কোন প্রকার Broken বা Spam লিংক ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পূর্ণ কনটেন্ট জুড়ে বেশ কয়েকবার ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। তবে অতিরিক্ত শব্দের ব্যবহারে কিওয়ার্ড স্টাফিং হতে পারে। তাই আর্টিকেল দৈর্ঘ্য অনুযায়ী ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন। যেমন: ৫০০ শব্দের জন্য ৬-৭ বার, ১০০০ শব্দের জন্য ১০-১৫ বার ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও আর্টিকেল Tag, Table tag ও Table of contents ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেগুলো On page SEO এর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
মেটা ডিস্ক্রিপশন বা লিংক তৈরি
অন পেইজ এসইও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সঠিক মেটা ডিস্ক্রিপশন ও লিংক তৈরি করা। তাই অবশ্যই ১৫০/১৬০ শব্দের মধ্যে একটি আকর্ষণীয় মেটা ডিস্ক্রিপশন তৈরি করুন। মেটা ডিস্ক্রিপশনে এক বা একাধিক বার ফোকাস কিওয়ার্ড এর ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
কনটেন্ট লেখার পর টাইটেল ব্যবহার করে একটি কাস্টম লিংক তৈরি করুন। লিংকটি অবশ্যই সর্বোচ্চ ৬০-৭৫ শব্দের মধ্যে রাখুন। তবে ইংরেজি কনটেন্টের ক্ষেত্রে কাস্টম লিংক ব্যবহার না করলেও সমস্যা নেই। কারণ গুগল টাইটেলকে টার্গেট করে একটি অট লিংক তৈরি করে দিবে। কিন্তু বাংলা কনটেন্টের ক্ষেত্রে তা হয় না। তাই এখানে কাস্টম লিংক ব্যবহার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। উপরোক্ত নিয়ম গুলো ফলো করে খুব সহজে একটি কনটেন্টকে অন পেইজ এসইও করা যেতে পারে।
On Page Seo Optimization এর গুরুত্ব
একটি কনটেন্ট বা একটি ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পাতায় নিয়ে আসার জন্য অন পেইজ এবং অপ পেইজ এসইও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেই ওয়েবসাইটের এই দুটি এসইও সবচেয়ে ভালো সেই ওয়েবসাইট গুলো খুব কম সময়ের মধ্যে Google রেংক করে। তাই ওয়েবসাইট কে গুগলের রেংক করানো, ভিজিটর বৃদ্ধি ও ওয়েবসাইট থেকে একটি স্মার্ট ইনকাম উপার্জন করার জন্য on page seo এবং off page seo করা খুবই জরুরি।
আশা করি কনটেন্টটি পড়ে আপনি অন পেইজ এসইও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেয়েছেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে। ধন্যবাদ!


