ডোমেইন হোস্টিং কি? কেন প্রয়োজন এবং কিভাবে কাজ করে?

ডোমেইন হোস্টিং কি? কেন প্রয়োজন এবং এগুলো কিভাবে কাজ করে এ নিয়ে বিস্তারিত থাকছে আজকের পোস্টে। আমরা সবাই কম বেশি বিভিন্ন ব্রাউজার ব্রাউজিং করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, নানা ধরনের কনটেন্ট পড়ে থাকি। কিন্তু অনেকে জানি না যে, এই সব ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করা হয় বা এটি কিভাবে কাজ করে। তাই আজকের পোস্টে ডোমেইন হোস্টিং কি? কেন প্রয়োজন এবং কিভাবে কাজ করে? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ডোমেইন হোস্টিং কি?

ডোমেইন ও হোস্টিং দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। যেগুলো একটি ওয়েবসাইটের জন্য খুবই অপরিহার্য। কিন্তু ডোমেইন হোস্টিং কি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ডোমেইন হলো: ডোমেইন দিয়ে সাধারণত কোন একটা ওয়েবসাইটের নামকে বুঝানো হয়। একটি ওয়েবসাইটকে নির্দিষ্টি করে চেনার জন্য একটি ডোমেইন নাম ব্যাবহার করা হয়। যেটি কেউ অন্য ওয়েবসাইটের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না। অর্থাৎ একটি ডোমেইন নেম সুধু মাত্র একটি ওয়েবসাইটকেই নির্দিষ্ট করে। যেমন: bongovasha.com, bongodesh24.com, google.com, youtube.com, facebook.com ইত্যাদি।

আর অন্যদিকে হোস্টিং হলো : ডাটা সংরক্ষণের স্থান। অর্থাৎ যেখানে একটি ওয়েবসাইটের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। যা পৃথিবীর সব দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। হোস্টিংকে আপনি মেমোরির সাথে তুলনা করতে পারেন। যেটি একটি ফোনের সকল ভিডিও, অডিও, ছবি, মিউজিক ও ফাইল সহ অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করে।

ডোমেইন কেন প্রয়োজন এবং কিভাবে কাজ করে

একটি ওয়েবসাইটকে নির্দিষ্ট করে চেনার জন্য ডোমেইন প্রয়োজন। ডোমেইন ছাড়া একটি ওয়েবসাইটকে নির্দিষ্ট করে চেনা বা খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য। এছাড়াও ডোমেইন ছাড়া একটি ওয়েবসাইটকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই ডোমেইন নাম রেজিস্ট্রার করা অপরিহার্য।

আরো পড়ুনঃ Viggle AI কি? Viggle AI দিয়ে ভাইরাল ভিডিও তৈরি করুন

হোস্টিং কেন প্রয়োজন এবং কিভাবে কাজ করে

ডোমেইনের মতো হোস্টিং ও একটি ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা হোস্টিং একটি ওয়েবসাইটের সমস্ত ডাটা বা ফাইলকে সংরক্ষণ করে। যেমন: ভিডিও, অডিও, ছবি, ডকুমেন্ট ইত্যাদি। তাই ডোমেইন হোস্টিং ছাড়া একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা প্রায় অসম্ভব বলা চলে।

 

ডোমেইন হোস্টিং দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি হয়

শুরুতেই আমরা জেনেছি ডোমেইন হোস্টিং কি এবং কেন প্রয়োজন। এ পর্যায়ে আমরা জানবো ডোমেইন ও হোস্টিং দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় এবং সেটি কিভাবে কাজ করে। বর্তমানে দুই ধরনের ডোমেইন দেখতে পাওয়া যায় প্রথমটি মেইন ডোমেইন ও দ্বিতীয়টি সাবডোমেইন। মেইন ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের মূল নাম। যেমন: Google.com বা Bongovasha.com ইত্যাদি। এখানে Bongovasha হলো মেইন ডোমেইন এবং .com হলো এক্সটেনশন। মেইন ডোমেইনের সাথে বিভিন্ন ধরনের এক্সটেনশন যুক্ত করা যায় যেমন: .com, .net, .info, .xyz ইত্যাদি।

অন্যদিকে মেইন ডোমেইন নামের আগে বা পরে আলাদা এক্সটেনশন যুক্ত করে সাব ডোমেইন তৈরি করা যায়। সাধারণত, মেইন ডোমেইন ক্রয় করতে ১০০-১৫০০ টাকা লাগলেও সাব-ডোমেইন নিতে কোন প্রকার অর্থের প্রয়োজন হয় না। যেমন: blogger.blogspot.com, en.bongovasha.com ইত্যাদি। তবে সাব-ডোমেইন তৈরি করতে অবশ্যই একটি মেইন ডোমেইন থাকা লাগবে।

ডোমেইনের মতো হোস্টিং ও বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত যেমন: ১০ জিবি, ২০ জিবি, ৫০ জিবি ইত্যাদি। শুরুতেই বলেছি হোস্টিংকে মোবাইলের মেমোরির সাথে তুলনা করতে পারেন। ফোনের মেমোরি যেমন বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত (৪ জিবি, ৮ জিবি, ১৬ জিবি) তেমনি হোস্টিং ও বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। আপনার ফোন মেমোরি যেমনিভাবে যত বেশি হবে। আপনে তত বেশি গান, ভিডিও, অডিও লোড করতে পারবন। ঠিক একইভাবে আপনার হোস্টিং ও যত বড় হবে আপনি তত বেশি ডাটা সেখানে সংরক্ষণ করতে পারবেন।

হোস্টিং মেইন ডোমেইন ও সাবডোমেইন উভয়ের সাথে যুক্ত করা যায়। ডোমেইন ও হোস্টিং এর সমন্বয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয়। তারপর সেই ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের আওতায় বিভিন্ন ধরনের ডাটা বা তথ্য আপলোড করে ওয়েবসাইটে রূপান্তর করা হয়। এভাবে ডোমেইন ও হোস্টিং দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়।ডোমেইন ও হোস্টিং দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার পর। বিভিন্ন ধরনের ব্রাউজারের এড্রেস বারে সেই ডোমেইন নেম লিখে সার্চ করে তার মধ্যে থাকা তথ্য গুলো দেখা যাবে। এভাবে ডোমেইন ও হোস্টিং এর সাহায্য বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট, টুলস বা ব্লগ সাইট ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

আশা করি, আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ডোমেইন এবং হোস্টিং কি? কেন প্রয়োজন এবং কিভাবে কাজ করে? এসব বিষয়ে জানতে পেরেছেন। এরকম আরোও গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে।

Leave a Comment