ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয় কি ২০২৪

ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয় কি ২০২৪ ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয় কি? বা কি করবেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন আজকের পোস্টে। ভোটার আইডি কার্ড অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ডকুমেন্ট। কিন্তু আপনাদের ভিতরে অনেকেই আছেন যারা ভোটার আইডি কার্ডটি হারিয়ে গেলে কিভাবে রিইস্যু আবেদন করতে হয় সেই সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না। যার কারণে আপনার ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে অথবা নষ্ট হয়ে গেলে পূণরায় উত্তোলনের জন্য আবেদন করতে পারেন না।

আজকের পোস্টে আমরা দেখবো কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে উত্তোলন করতে হয়, উত্তোলন করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন, কিভাবে পেমেন্ট করতে হয় এবং কোন জায়গায় গিয়ে পুনরায় ভোটার আইডি কার্ডের ডুবলিকেট কপিটি নিয়ে আসবেন। সকল কিছু বিস্তারিত আলোচনা করবো আজকের পোস্টে। তাই ধৈর্য সহকারে আজকের পোস্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয় কি

ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে অথবা নষ্ট হয়ে গেলে আপনাকে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এখন আপনার যদি ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায়। তাহলে প্রথমেই আপনাকে ভোটার আইডি কার্ডের রিইস্যুর জন্য থানায় গিয়ে জিডি করতে হবে এবং জিডি করার সময় অবশ্যই আপনার নাম এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর উল্লেখ করবেন।

তবে বর্তমান সময়ে জিডি করার জন্য আপনাকে থানায় যেতে হবে না। আপনি চাইলেই আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে জিডি করতে পারবেন। এখন জিডি করার পরে জিডির কপিটি স্ক্যান করে আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটার সংরক্ষণ করুন। যেটি ব্যবহার করে আপনি ভোটার আইডি কার্ড রিইস্যুর জন্য আবেদন করবেন। ভোটার আইডি কার্ড রিইস্যুর জন্য আবেদন করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটার থেকে যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করুন এবং সার্চবারে services.nidw.gov.bd লিখে সার্চ করুন। তাহলে আপনাকে Nid Card সার্ভারে নিয়ে যাবে।

এখন ভোটার আইডি কার্ড রিইস্যু আবেদন করার আগে আপনাকে আরোও একটি কাজ করতে হবে। সেটি হলো: আপনি যে ভোটার আইডি রিইস্যুর করবেন। সেই ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ব্যবহার করে ভোটার আইডি কার্ডের রিইস্যুর ফি পরিশোধ করতে হবে। এখন আপনি মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস বিকাশ ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

ভোটার আইডি কার্ডের রিইস্যু ফি পরিশোধ

ভোটার আইডি কার্ডের রিইস্যু ফি পরিশোধ করার জন্য আপনার বিকাশ একাউন্টের প্রবেশ করুন। তাহলে আপনার সামনে নতুন একটি পেইজ ওপেন হবে এবং সেখানে অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন। এখন আপনি ‘পে-বিল’ অপশনে ক্লিক করুন।তাহলে আপনাকে পরবর্তী অপশনে নিয়ে যাবে। এখন আপনি যদি স্ক্রোল করে নিচে নামেন। তাহলে ‘NID Service’ অপশন দেখতে পাবেন সেখানে ক্লিক করুন। তারপরে পরবর্তী অপশনে আবেদনের ধরন সিলেক্ট করুন। উদাহরণ স্বরূপ, আপনি ‘Duplicate Urgent’ সিলেক্ট করুন। তারপরে আপনার হারানো ভোটার আইডি কার্ডের নম্বরটির বসিয়ে ‘পে-বিল’ অপশনে ক্লিক করুন।

আরো পড়ুনঃ নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড-২০২৪

তাহলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের রিইস্যু জন্য কত টাকা পেমেন্ট করতে হবে সেটি দেখতে পাবেন। এখন আপনি ‘ট্যাপ করে এগিয়ে যান’ অপশনে ক্লিক করুন। তারপরে আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন নম্বরটি বসিয়ে ‘এ্যারোপিতে’ ট্যাপ করে ধরে রাখুন। তাহলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের রিইস্যু জন্য পেমেন্টটি সম্পূর্ণ হবে এবং আপনার সামনে এমন একটি ইন্টারফেজ ওপেন হবে।

এখন আপনি চাইলেই ‘ডাউনলোড রিসিট’ অপশনে ক্লিক করে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের রিসিটটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এবারে আপনি আবারোও ‘Nid Card’ সার্ভারে প্রবেশ করুন। এখন আপনার যদি এই সাইটে আগে কোনো একাউন্ট তৈরি করা না থাকে। তাহলে ‘রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে ক্লিক করে একাউন্ট তৈরি করুন। আর আপনার যদি আগে থেকে একাউন্ট তৈরি করা থাকে। তাহলে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে একাউন্টে ‘লগইন’ করুন। তাহলে আপনার সামনে নতুন একটি পেইজ ওপেন হবে এবং সেখানে আপনার ছবি, নাম এবং ডিটেইল চলে আসবে।এখন আপনি উপরে প্রদর্শিত ছবি থেকে ‘রিইস্যু’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী অপশনে নিয়ে যাবে এবং সেখানে একটি ফরম ওপেন হবে। এখন ভোটার আইডি কার্ড রিইস্যু জন্য আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করতে হবে। যেমন:

  • পুনর্মুদ্রণ কারন
  • জিডি নম্বর
  • থানা
  • পুলিশ অফিসারের নাম
  • পুলিশ অফিসারের পদবী এবং
  • জিডির তারিখ

এখন আপনি ‘Edit’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি যদি পরিচয় পত্র সংশোধন করতে চান বা পুনরায় পেতে চান। তাহলে নির্দিষ্ট পরিমাণের কিছু ফি আপনাকে পরিশোধ করতে হবে এবং ফি পরিশোধ করার 30 মিনিট পরে আপনি আবেদন করতে পারবেন। সাধারণত, 30 মিনিট সময় লাগে না। তার আগেই আপনি আবেদন করতে পারবেন। তাছাড়া কোন কোন ব্যাংকে আপনি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা জমা করতে পারবেন সেটাও দেখতে পারবেন। যেমন:

  1. Bkash লিমিটেড
  2. Southeast ব্যাংক লিমিটেড
  3. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
  4. ডাচ বাংলা ব্যাংক এবং রকেট মোবাইল ব্যাংকিং
  5. ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং টি-ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং
  6. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  7. ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড এবং ওকে ওয়ালেটে মোবাইল ব্যাংকিং
  8. মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং
  9. ইউসিবি ফিনকেট কোম্পানি লিমিটেড এবং উপায় মোবাইল ব্যাংকিং

এখন আপনি নিচে থেকে ‘বহাল’ লেখাটিতে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে যাওয়া তথ্য অনুযায়ী অপশন গুলো পূরণ করুন। তারপরে ‘পরবর্তী’ লেখাটিতে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সামনে এমন একটি পেইজ ওপেন হবে এবং সেখানে আপনার টাকা ডিপোজিট হয়ে গেছে সেটিও দেখতে পাবেন।

এখন আপনি নিচে থেকে আবেদনের ধরন এবং বিতরণের ধরন নির্বাচন করুন। তারপরে ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন। এখন পরবর্তী অপশনে আপনার জিডির কপিটি আপলোড করতে হবে। এখন জিডির কপিটি আপলোড করার জন্য ‘Admit Card’ অপশনে ক্লিক করে ‘জিডি’ সিলেক্ট করুন।তারপর ‘Upload’ লেখাটিতে ক্লিক করে আপনার জিডির কপিটি আপলোড করুন। যেটি আগে থেকে আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটারে স্ক্যান করে রেখেছেন। এখন জিডির কপিটি আপলোড করা হয়ে গেলে ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে পরবর্তী অপশনে আপনি কি কি তথ্য আপলোড করেছেন সেটি দেখতে পাবেন। এখন আপনি ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের রিইস্যুর আবেদনটি সাবমিট হয়ে যাবে এবং আপনাকে আগের হোম পেইজে নিয়ে যাবে।এখন আপনি আবারোও ‘রিইস্যুতে’ ক্লিক করুন। তাহলে আপনার একটি অ্যাপ্লিকেশন পেন্ডিং রয়েছে লেখাটি চলে আসবে এবং ‘ডাউনলোড’ একটি অপশন দেখতে পাবেন। এখন আপনি ‘ডাউনলোড’ অপশনে ক্লিক করে আপনার আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করে রাখুন। এখন আপনাকে ১০ থেকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। তাহলে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হবে।

যখনই আপনার আবেদন পত্রটি অনুমোদিত হবে। তখনই আপনাকে এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হবে। আর যদি আপনার মোবাইলে এসএমএস না আসে। তাহলে আপনি এই সাইটে লগইন করে ডাউনলোড অপশন এ ক্লিক করে সরাসরি চেক করতে পারবেন। যখনই আপনার আবেদন পত্রটি অনুমোদিত হবে। তখনই আপনি ‘ডাউনলোড’ অপশনে ক্লিক করে। সেটিকে ডাউনলোড করে ‘লেমেডিন’ করে ব্যবহার করতে পারবেন। মূলত, আপনি যে ইস্যুর জন্য আবেদন করবেন। সেটি কিন্তু আপনাকে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে আপনাকে যোগাযোগ করে দেওয়া হবে না। আপনাকে যেটি করতে হবে রিইস্যু হয়ে গেলে ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করে। আপনার ভোটার আইডি কার্ডটি ‘ডাউনলোড’ করে নিতে হবে এবং পরবর্তীতে যখন স্মার্ট কার্ড বিতরণ কর্মসূচি আসবে। তখন অটোমেটিক আপনার স্মার্ট কার্ডটি ইস্যু হয়ে আপনার কাছে চলে আসবে।

Leave a Comment