ডাচ-বাংলা স্টুডেন্ট একাউন্ট নাকি সেভিং একাউন্ট কোনটি খুলবেন

ডাচ-বাংলা স্টুডেন্ট একাউন্ট নাকি সেভিং একাউন্ট কোনটি খুলবেন? আপনাদের ভিতরে অনেকেই আছেন যারা সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না। আসলে আপনার জন্য স্টুডেন্ট একাউন্ট নাকি সেভিং একাউন্ট কোনটি ভালো হবে। সাধারণত স্টুডেন্ট একাউন্ট অথবা সেভিং একাউন্টে তেমন কোন পার্থক্য নেই। তবে সুবিধার দিক থেকে দুটি একাউন্টে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করবো আপনাদের জন্য কোন একাউন্টটি বেস্ট হবে। স্টুডেন্ট একাউন্ট নাকি সেভিং একাউন্ট।

ডাচ-বাংলা স্টুডেন্ট একাউন্ট নাকি সেভিং একাউন্ট

আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনি স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন। অন্যথায় আপনি স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন না এবং আপনি যদি জেনারেল Person হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি সেভিং একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। অন্যথায়, আপনি যদি স্টুডেন্ট একাউন্ট তৈরি করতে চান। তাহলে আপনাকে আপনার স্টুডেন্ট ডকুমেন্ট সাবমিট করতে হবে।

ডাচ-বাংলা স্টুডেন্ট একাউন্টের সুবিধা

ডাচ-বাংলা স্টুডেন্ট একাউন্টে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো: আপনাকে যে কার্ডটি প্রদান করবে অথবা এটিএম কার্ডটি দিয়ে সেই কার্ডটি ব্যবহার করে আপনি লাইফ টাইম ফ্রিতে টাকা লেনদেন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কোন প্রকার কার্ডের সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে না। তাছাড়াও আপনি সেভিংস একাউন্টের তুলনায় স্টুডেন্ট একাউন্টে সামান্য কিছু টাকা রেট বেশি পাবেন।

স্টুডেন্ট একাউন্টের অসুবিধা

স্টুডেন্ট একাউন্টের ক্ষেত্রে আপনাকে কোন প্রকারের চেক বই প্রদান করা হবে না। শুধুমাত্র আপনাকে কার্ড দেওয়া হবে। আপনি কার্ডটি ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা উইথড্র করতে পারবেন। তাছাড়াও স্টুডেন্ট একাউন্টে ক্ষেত্রে টাকা লিমিট কম থাকে। সাধারণত, স্টুডেন্ট একাউন্ট এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত লিমিট হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি চান তাহলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ১ লাখের ও বেশি লেনদেন করতে পারবেন। তবে একসাথে এক লাখ টাকার বেশি লেনদেন করতে পারবেন না। এখানে লিমিট বলতে এই বিষয়টিকে বুঝানো হয়েছে। লিমিটটি ব্রাঞ্চ হিসাবে কম বেশি হতে পারে। তবে সাধারণত, যখন অ্যাকাউন্ট করবেন তখন ফরমের মধ্যে উক্ত ব্রাঞ্চের লিমিটেশন উল্লেখ থাকবে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার নিয়ম

তাছাড়া ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউব, বিদেশ ইত্যাদি থেকে টাকা ২/৫/১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই স্টুডেন্ট একাউন্টে নিতে পারবেন। এতে করে আপনাকে কোন প্রকারের সমস্যা পোহাতে হবে না। এখানে রেমিটেন্স ইনকামের ক্ষেত্রে কোন প্রকারের লিমিটেশন নেই। এটি বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাছাড়াও স্টুডেন্ট একাউন্টে ৫ হাজার টাকা উপরে আপনাকে চার্জ প্রদান করতে হবে। এখানে আপনি যদি ৫ হাজারের বেশি টাকা লেনদেন করেন। তাহলে আপনাকে চার্জ প্রদান করতে হবে। এখানে সেভিং একাউন্ট এবং স্টুডেন্ট একাউন্টের চার্জ একই প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া ও সেভিংস একাউন্টে আপনাকে কার্ডের চার্জ প্রদান করতে হবে এবং স্টুডেন্ট একাউন্ট এর ক্ষেত্রে আপনাকে কার্ডের চার্জ প্রদান করতে হবে না।

তাছাড়া ও স্টুডেন্ট একাউন্টের ক্ষেত্রে আরো দুইটি সুবিধা রয়েছে। যেমন:

  1. হার্ডওয়ার টোকেন এবং
  2. সফটওয়্যার টোকেন

যেগুলো টুইস্টেপ ভেরিফিকেশন করার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবেন। এছাড়া ও টোকেনগুলো ব্যবহার করে আপনি বিভিন্ন ট্রানজেকশন, ফান্ড ট্রান্সফার ও instant বিভিন্ন প্রকার ট্রানজেকশন করতে পারবেন। স্টুডেন্ট ও সেভিং উভয় একাউন্টের ক্ষেত্রে এটি সমানভাবে কাজ দেবে। এছাড়াও আপনি চাইলে স্টুডেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা নিতে পারবেন এবং Nexus Pay অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন পেমেন্ট সহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

ডাচ বাংলা স্টুডেন্ট একাউন্ট করতে কি কি লাগবে

ডাচ বাংলা ব্যাংকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

  • স্টুডেন্ট আইডি কার্ড অথবা সার্টিফিকেট
  • ১৮+ বয়স হতে হবে এবং
  • ১৮ বছরের নিচে স্টুডেন্ট ক্ষেত্রে তার অভিভাবকে সাথে নিতে হবে। মূলত, ১৮ বছরের নিচে স্টুডেন্ট একাউন্ট গুলো অভিভাবকের দায়িত্ব থাকে। এখানে স্টুডেন্ট নামিনি হিসেবে কাজ করতে পারবে। সেটি অনেকটাই ঝামেলার। এক্ষেত্রে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুললে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে।
  • তাছাড়াও রেফারেন্স হিসেবে আপনি যে শাখায় একাউন্ট তৈরি করতে চাচ্ছেন। সেই শাখার পরিচিত কাউকে প্রয়োজন হবে এবং তার একাউন্ট নম্বর ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
  • নমিনির প্রয়োজন হবে এবং নমিনির সদ্য তোলা এক কপি রঙ্গিন ছবি প্রয়োজন হবে।
  • আবেদনকারীর NID Card থাকলে তার ফটোকপি ও ছবি প্রয়োজন হবে।
  • তবে একাউন্ট খোলার প্রথম পর্যায়ে আবেদনকারীকে সামান্য কিছু অর্থ সঞ্চয়/জমা করে একাউন্ট খুলতে হবে।

সেভিং একাউন্ট খুলতে কি কি লাগবে

সেভিং একাউন্ট কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে।

সে সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

  • আবেদনকারীর জব আইডি কার্ড অথবা পেশার প্রমানপত্র।
  • আবেদনকারীর ২কপি রঙ্গিন ছবি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
  • রেফারেন্স।
  • নমিনির সদ্য তোলা এক কপি রঙ্গিন ছবি।
  • টিন সার্টিফিকেট (প্রযোজ্যের ক্ষেত্রে)।

সেভিং একাউন্টের সুবিধা ও অসুবিধা

একজন সেভিং অ্যাকাউন্টধারী স্টুডেন্ট একাউন্ট এর মতই সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকবেন। তবে সেভিং একাউন্ট এর উপরে নির্ভর করে অ্যাকাউন্ট লিমিটেশন নির্ধারণ করা হবে। এছাড়াও একজন সেভিং একাউন্টধারী শপিং কার্ড এর পরিবর্তে ভিসা কিংবা মাস্টার কার্ড নিতে পারবেন। এছাড়াও পাসপোর্ট ব্যবহার করে ডুয়েল কারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কার্ড নিতে পারবেন। তাছাড়াও একজন সেভিং একাউন্টধারী চাইলে চেক বই গ্রহণ করতে পারবেন। যেটি স্টুডেন্ট একাউন্টের ক্ষেত্রে পাবেন না। তবে মনে রাখবেন স্টুডেন্ট একাউন্টের চেয়েও সেভিং একাউন্ট গুলোর ক্ষেত্রে চার্জ একটু বেশি হয়ে থাকে। যেমন: ভিসা বা মাস্টার কার্ড চার্জ বাৎসরিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। চেক বই চার্জ ইত্যাদি।আশা করি, আপনারা বুঝতে পেরেছেন স্টুডেন্ট একাউন্ট নাকি সেভিং একাউন্ট কোনটি খুলবেন? বা কোনটি আপনার জন্য ভালো হবে। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *