টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড ২০২৫

টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন আজকের পোস্টে। সাধারণত, আপনি অনলাইনে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন করেছেন এবং তার পাশাপাশি সমস্ত কাগজপত্র জমা করেছেন। এখন যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়ে থাকে। তাহলে আপনি খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।

আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করবো। কিভাবে আপনি আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন। তাই ধৈর্য ধরে আজকের পোস্টটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড

টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটারের ডাটা সংযোগ চালু করুন। তারপর আপনার মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে থাকা Google Chrome Browser ওপেন করুন এবং সার্চ অপশনে Service.nidw.gov bd লিখে সার্চ করুন।

তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে অনেকগুলো ওয়েবসাইট শো করবে। এখন আপনি প্রথম ওয়েবসাইট অর্থাৎ, Nid services ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। তাহলে আপনার সামনে এমন একটি ইন্টারফেস ওপেন হবে এবং সেখানে একাউন্ট নেই রেজিস্টার করুন অপশন দেখতে পাবেন।

এখন আপনি ‘রেজিস্টার করুন’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে একটি ফর্ম ওপেন হবে। এখন আপনাকে ফর্মটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। যেমন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর/ফরম নম্বর এবং
  • জন্ম তারিখ

তাহলে উপরে উল্লেখিত অপশন গুলো আপনি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। তারপর নিচের প্রদর্শিত ক্যাপচাটি সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট অপশনে ক্লিক করে বহাল বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে এমন একটি ইন্টারফেস শো করবে।

এখন আপনি ফর্মে লক্ষ্য করলে সেখানে বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা দুটি অপশন দেখতে পাবেন। এখন বর্তমান ঠিকানা অপশনে আপনি তিনটি অপশন পেয়ে যাবেন। যেমন:

  1. বিভাগ
  2. জেলা এবং
  3. উপজেলা

এখন আপনার ‘বর্তমান ঠিকানা’ অনুযায়ী উপরে উল্লেখিত অপশনগুলো সঠিকভাবে পূরণ করুন। তারপর নিচে স্থায়ী ঠিকানা অপশন দেখতে পাবেন এবং সেখানে তিনটি অপশন শো করবে। যেমন:

  1. বিভাগ
  2. জেলা এবং
  3. উপজেলা

তাহলে আপনার স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী অপশন গুলো সঠিকভাবে পূরণ করুন। এখন সকল অপশন সঠিকভাবে পূরণ করা হয়ে গেলে নিচে থেকে পরবর্তী লেখাটিতে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে আপনার একটি মোবাইল নম্বর দেখতে পাবেন। এখন সেখানে লক্ষ্য করলে দুটি অপশন দেখতে পাবেন। যেমন:

  1. বার্তা পাঠান এবং
  2. মোবাইল পরিবর্তন

এখন আপনি যদি আপনার মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে চান। তাহলে মোবাইল পরিবর্তন অপশনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করুন। অন্যথায়, বার্তা পাঠান অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড অথবা ওটিপি যাবে। এখন আপনি সেই ভেরিফিকেশন কোডটি বসিয়ে বহাল বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে এমন একটি ইন্টারফেস ওপেন হবে।

এখন টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে কি কি প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে সেটি দেখতে পাবেন। যেমন:

  1. আপনার মোবাইলে NID wallet অ্যাপটি ইনস্টল করতে হবে
  2. তারপর লাল বাটনে ট্যাপ করে পরবর্তী ধাপ অনুসরন করতে হবে এবং
  3. আপনার যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে

এখন আপনাকে আপনার মোবাইলে NID wallet অ্যাপটি ইনস্টল করতে হবে। তাহলে আপনার মোবাইলে থাকা Google play store প্রবেশ করুন এবং সার্চ অপশনে NID wallet লিখে সার্চ করুন। তারপর সার্চ রেজাল্টে আসা NID wallet অ্যাপটি ইনস্টল করুন।

তারপর আবারোও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন এবং ‘Tap to open Nid wallet’ অপশনে ক্লিক করুন। তারপর পরবর্তী অপশন থেকে ‘Agree and continue’ অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে আপনার ফেস স্ক্যান করতে হবে। এখন ফেস স্ক্যান করার জন্য নিচে থেকে Start face scan অপশনে ক্লিক করে আপনার ফেসটিকে স্ক্যান করুন এবং Ok অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার ফেস স্ক্যান সম্পূর্ণ হবে এবং আপনার সামনে এমন একটি ইন্টারফেস ওপেন হবে।

এখন উপরে উল্লেখিত পিকচারে লক্ষ্য করলে সেখানে আপনার নাম দেখতে পাবেন এবং Set password অপশন দেখতে পাবেন। এখন আপনি চাইলে পরবর্তীতে একাউন্টে লগইন করার জন্য পাসওয়ার্ড সেট করতে পারেন। অন্যথায়, নিচে থেকে এড়িয়ে যান অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে আপনার নাম, ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ইত্যাদি তথ্য দেখতে পাবেন। তাছাড়াও নিচে আরোও কিছু অপশন দেখতে পাবেন। যেমন:

  • প্রোফাইল
  • রিইস্যু
  • পাসওয়ার্ড পরিবর্তন
  • স্ট্যাটাস
  • স্মার্ট এন আই ডি কার্ড স্ট্যাটাস এবং
  • ডাউনলোড

এখন আপনি ডাউনলোড অপশন এ ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে আপনার ভোটার আইডি কার্ড দেখতে পাবেন। এখন আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো: ভোটার আইডি কার্ডটি আপনার মোবাইলে সেভ করে নিতে হবে।

তারপর যেকোনো কম্পিউটার দোকান থেকে ভোটার আইডি কার্ডটি প্রিন্ট করে লিমিটিং করে নিতে হবে। তাহলে আপনি যতদিন না ভোটার আইডি কার্ডের হার্ড কপি না পাবেন। ততদিন লিমিটিং ভোটার আইডি কার্ড বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন। আর অনেকের ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সময় এমন একটি ইন্টারফেস ওপেন হতে পারে।

এখন আপনি উপরে উল্লেখিত নির্দেশনাবলী গুলো ভালোভাবে পড়ুন। তাহলে সেখানে আপনার সমস্যাটি দেখতে পাবেন। সাধারণত যারা নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয় পত্র মুদ্রিত হয়নি। তারা চাইলে এখান থেকে বিনা ব্যয় জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আর যাদের ইতিপূর্বে জাতীয় পরিচয় পত্র আছে কিন্তু নতুন করে যে কোন প্রয়োজনে আবারো ডাউনলোড করতে চাচ্ছেন। তাদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মর্মে আবেদন করে আবেদন ফি জমা দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র পুনরায় ডাউনলোড করতে পারবেন।

অন্যদিকে যারা ইতিমধ্যেই জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের আবেদন করেছেন। তারা জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন হওয়ার পর সেটি NID wallet অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ নতুন পার্সপোটের জন্য আবেদন করার নিয়ম- ২০২৫

আশা করি, আর্টিকেলটি পড়ে আপনি টোকেন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এরকম আরো অনলাইন সেবা রিলেটেড গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে।

Leave a Comment