ওমরা হজ করতে যাওয়ার নিয়ম এবং বিস্তারিত ২০২৪

ওমরা হজ করতে যাওয়ার নিয়ম এবং বিস্তারিত ২০২৪ ওমরা হজ করতে যাওয়ার নিয়ম এবং বিস্তারিত জাননু আজকের পোস্টে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হজ্জ। সমর্থ্যবান ব্যক্তিদের পক্ষে জীবনে একবার হলেও বড় হজ আদায় করা ফরজ। ইসলামের পরিভাষায় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর জিয়ারত করাকে ওমরা বলা হয়। যে কেউ চাইলে জীবনে অনেকবার ওমরা করতে পারে। আজকের পোস্টে ওমরা হজ করতে যাওয়ার নিয়ম এবং বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ওমরা হজ করতে যাওয়ার নিয়ম এবং বিস্তারিত

আমাদের ভিতরে অনেকেই ওমরা হজ আদায় করার পদ্ধতি জানেন না, কোথায় নিয়ত করবেন বা ইহরাম বাঁধবেন, কি কি করা লাগবে এবং কি কি বর্জন করতে হবে। তাই এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করা হবে আজকের পোস্টে তাই ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার অনুরোধ রইল।

ওমরা হজ এর ফরজ বিধান সমূহ

ওমরা হজ করতে যাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে প্রখ্যাত মহাদ্দেস শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন ‘ওমরা হলো চারটি কাজের সমন্বয়’ অর্থাৎ কেউ যদি এই চারটি কাজ সঠিকভাবে করতে পারে তাহলে তার ওমরা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’ সেগুলো হলো:

  • ইহরাম পরিধান করা।
  • তাওয়াফ করা।
  • সাঈ করা।
  • মাথামুন্ডন করা (পুরুষ) চুল ছোট করা (মহিলা)।

ইহরাম বাঁধার নিয়ম

ইহরাম বাঁধা বিষয়ক আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন ‘আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যেন মিকাত থেকে ইহরাম পরিধান চ করি। কিন্তু যারা বিভিন্ন দেশ থেকে বিমানে করে ওমরা করতে যান। তাদের যদি সম্ভব হয় মিকাতে অবস্থান করার তাহলে সেখান থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। কিন্তু যাদের মিকাতে অবস্থান করার স্বভাব নয় তারা মিকাতের কাছাকাছি কোথাও অবস্থান করলে সেখান থেকে ইহরাম পরিধান করবেন। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে একেবারেই মিকাতে অবস্থান করা বা মিকাতের আশেপাশে অবস্থান করা সম্ভব নয়। তারা নিজ দেশ থেকে ইহরাম বেঁধে যাবেন (বাংলাদেশ)।

ইহরাম হলো পুরুষদের জন্য সেলাই বিহীন দুটি কাপড়। একটি পরিধান করা এবং অন্যটি গায়ে দেওয়া। ইহরাম পরিধান করে মিকাত থেকে নিয়ত সম্পন্ন করতে হবে। ‘লাব্বাইকা ওমরাতান’ বলে নিয়ত করতে হবে। সাধারণত, বিমান মিকাত অতিক্রম করার সময় হজ যাত্রীদের মেকাত সম্পর্কে অবহিত করা হয়। নিয়ত করার পর থেকে তালবিয়া পড়তে হবে:

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক লা শারি-কা লাক’।”

তালবিয়াটি পুরুষেরা উচ্চ স্বরে এবং নারীরা নিরবে পড়তে থাকবেন। ইহরাম পড়ার পর থেকে ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ গুলো বর্জন করতে হবে। সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো:

ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ সমূহ:

  • কোন প্রাণীকে হত্যা করা
  • চুল, নখ বা শরীরের কোন পশম ইত্যাদি কাটা বা উপড়ে ফেলা।
  • সুগন্ধি ব্যবহার করা
  • সেলাই করা পোষাক পরিধান করা
  • ঝড়গা-বিবাধ করা
  • সাজসজ্জা করা
  • চুলে তেল দেওয়া
  • সুগন্ধি যুক্ত সাবান, পাউডার, ক্রিম বা পারফিউম ব্যবহার করা
  • গবাদি পশু জবাই করা
  • শরীরে ট্যাটো ব্যবহার করা
  • শিকারিকে শিকারে সাহায্য করা ইত্যাদি।

তাওয়াফ করার নিয়ম:

তাওয়াফ হলো পবিত্র কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা। হজ্জ যাত্রীরা মক্কায় পৌঁছে শারীরিক ভাবে বিশ্রম নিয়ে তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। তাওয়াফের জন্য নির্দিষ্ট কোন দোয়া নেই। কাবা ঘরে পৌঁছে তাওয়াফের নিয়ত করে হাজারে আসওয়াদকে চুম্বন করে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তাওয়াফ শুরু করা। তবে ভিড়ের কারনে হাজারে আসওয়াদকে চুম্বন করা সম্ভব না হলে। হাজারে আসওয়াদকে হাতের বামে রেখে হাত দিয়ে ইশারা করে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তাওয়াফ শুরু করা।

তাওয়াফের সময় আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। তাই এ সময় নিজের মনের নেক ভাষণা গুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরা। এছাড়া এ সময় সহি হাদিসের আলোকে বিভিন্ন দোয়া পড়া, আল্লাহ শুকরিয়া ও প্রশংসা আদায় করা ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নামে দুরুদ পড়া।তাওয়াফ শেষে তাওয়াফের দু’রাকাত নামাজ আদায় করা। প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন ও দ্বীতৃয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়া সুন্নত। তবে অন্য কোন সূরা মিলিয়ে পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

সাঈ করা

তাওয়াফ শেষ করার পর এখন আপনাকে সাঈ করতে হবে। সাঈ করার জন্য সাফা পাহাড়ের উপর দাড়িয়ে কেবলা মূখী হয়ে এই দোয়া পড়বেন: ‘‘ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়িতামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মান তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’’ এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করবেন।

একইভাবে মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে দোয়া করবেন। এভাবে সাফা থেকে মারওয়া আবার মারওয়া থেকে সাফা পাহাড়ের সর্বমোট ৭ বার চক্কর কাটবেন। চক্কর চলাকালীন সময় আপনি চাইলে চাইলে আল্লাহর জিকির, দোয়া দরুদ বা মুখাস্ত কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন।

মাথামুন্ডন করা

সাঈ শেষে পুরুষের মাথা মুন্ডন করবেন। যদি কোন কারণে মাথা মুণ্ডনে ব্যর্থ হোন তাহলে চুল কেটে ছোট করে ফেলবেন। আর মেয়েরা চুলের আগা থেকে ১/২ ইঞ্চি কেটে ছোট করে নিবেন। এভাবে করে আপনাকে ওমরা হজ্জের যাবতীয় নিয়ম কানুন সম্পন্ন করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২৪

আশা করি, ওমরা হজ করতে যাওয়ার নিয়ম কানুন সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পেরেছেন। এরকম ইসলামিক রিলেটেড আরোও গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে।

Leave a Comment